ইউটিউব এ স্পামিং (Spamming) কি? কি কি করলেই স্পামিং হয়? - জীবন গড়ি প্রযুক্তির সুরে ♫

Infotech Ad Top new

Infotech ad post page Top

ইউটিউব এ স্পামিং (Spamming) কি? কি কি করলেই স্পামিং হয়?

ইউটিউব এ স্পামিং (Spamming) কি? কি কি করলেই স্পামিং হয়?

Share This
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং বিশাল প্ল্যাটফর্ম গুলোর মধ্যে ইউটিউব একটা বিশেষ জায়গা জুড়ে রয়েছে। এবং দিন দিন এর পরিধি এবং পরিসর এতটাই বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, এটিকে নিয়ন্ত্রণ করার শুধু কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন এক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ইউটিউব নামক এই প্লাটফর্মটির পরিবেশ সুস্থ এবং সাবলীল রাখতে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ বিশেষ কিছু নিয়ম বা বিধি চালু রেখেছে।


এই প্ল্যাটফর্মটির সুস্থতা বজায় রাখতেই ইউজারকে তাই এসকল নিয়ম কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। এ সকল নিয়মের ব্যত্যয় হলেই ইউটিউব কর্তৃপক্ষ শাস্তি স্বরূপ এর ইউজারকে বিভিন্নভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটিকেই ইউটিউব এর ভাষায় বলা হয় স্ট্রাইক। ইউটিউবে এই স্ট্রাইক দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন ‌‌:-
১. Community guideline strike
২. Copyright strike
আজকে আমরা ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইক এর অন্যতম একটি বিষয় spamming নিয়ে আলোচনা করব।
প্রশ্ন: ইউটিউবে স্প্যামিং কি?
উত্তর: স্প্যামিং শব্দটিকে নিয়ে আলোচনা করার আগে দূষণ কথাটিকে নিয়ে একটু কথা বলা দরকার। যেমন আমরা নানা ভাবেই দুষণ কার্য করে থাকি যেমন ধরুন পরিবেশ দুষণ, বায়ু দুষণ  ইত্যাদি। অর্থাৎ আমরা মানবকুল আর কিছু না পারলেও এই কাজে ওস্তাদ। আর এই ধারা আদি পিতা আদম (আঃ) হতে শুরু করে অদ্যবধি জারি রয়েছে এবং রবে ইনশাল্লাহ্ । তদ্রুপ ইউটিউব স্প্যামিং হলো ইউটিউব দুষণ। ইউটিউব তার কমিউনিটিকে ইকো ফ্রেন্ডলি রাখার জন্য কতগুলো নিয়ম জারি করেছে। আমরা ইউটিউব ইউজার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরগণ যখন সেই সকল নিয়মের তোয়াক্কা না করে এই কামিউনিটি হতে অবৈধ ফায়দা পাওয়া চেষ্টা করি তখন তাকে  ইউটিউব স্প্যামিং বলে। 
প্রশ্ন: ইউটিউবে স্পামিং কতভাবে হয়ে থাকে?
দেখুন ইউটিউবে স্পামিং বা দূষণ বিভিন্ন প্রকারের বা বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে তবে আলোচনার সুবিধার্থে আজকে আমরা এটাকে তিনটা ভাগে ভাগ করে আলোচনা করব। 
ক) video comment স্পামিং:- সামাজিক মাধ্যম হিসেবে ইউটিউব প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ কনটেন্ট আপলোড করে থাকে। এবং এসকল ভিডিওর নিচে কমেন্ট বক্স রয়েছে যাতে লক্ষ লক্ষ ইউজার এখানে বিভিন্ন রকমের রকমের কমেন্টস করে থাকেন। আর কমেন্টের মাধ্যমে যে সকল স্পামিং হয় এগুলোকে বলা হয় ভিডিও কমেন্ট স্পামিং। যেমন:-
I) Personal Comment: ভিডিও রিলেটেড মন্তব্য না করে ওই ভিডিওর নিচে কমেন্ট বক্সে কনটেন্ট ক্রিয়েটর এর মোবাইল নম্বর জানতে চাওয়া বা ইউজারের নিজের মোবাইল নাম্বার সেখান দিয়ে দেওয়া এগুলোই হচ্ছে পার্সোনাল কমেন্ট স্পামিং। 
II) Hate Speech comment: কমেন্টস বক্সে কোন বিশেষ গোষ্ঠী ব্যক্তিকে গালি দেওয়া, অশ্রাব্য ‌ও দৃষ্টিকটু শব্দ ব্যবহার করা যা কোন বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অপমানিত বা ক্ষুব্ধ করে সে গুলোকে Hate Speech comment বলে‌‌। 
III) কমেন্ট বক্সে content link ব্যবহার করা: ইউটিউব রুলস এর তোয়াক্কা না করেই অনেক অনলাইন মার্কেটার আর কনটেন্ট রাইটার এবং অ্যাফিলিয়েটরগন বাছবিচার না করে কমেন্টস বক্সে লিংক সাবমিশন করে থাকে যার অনেকগুলোই আফিলিয়েশন বা অনলাইন ফিশিং লিংক যার মাধ্যমে অন্যান্য ইউটিউব ইউজারের প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যায়। ইউটিউব এমন লিংক সাবমিশন কে নিরুৎসাহিত করে এবং এগুলোকে স্প্যাম হিসেবে গণ্য করে। 
IV) কমেন্টস বক্সে অতিমাত্রায় ভিডিও লিংক ব্যবহার করা:  অনেক সময় বুঝে বা না বুঝে হোক নতুন ইউটিউবার বা নতুন ইউটিউব ইউজার তাদের ইউটিউব চ্যানেলের ভিউ বাড়ানোর জন্য বড় বড় চ্যানেলগুলোতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও লিংক সাবমিশন করে থাকে যা ইউটিউব এর নিয়মের পরিপন্থী। এ কাজটি একাধিকবার করলেই ইউটিউব কর্তৃপক্ষ এটিকে স্প্যাম হিসেবে গণ্য করে। 
V) কমেন্ট বক্সে sub for sub বা নিজের চ্যানেল থেকে ঘুরে আসতে বলা, সাবস্ক্রাইব করতে বলার বিষয়টিকে ইউটিউব স্পামিং হিসেবে গণ্য করে।
VI) ইউটিউব ভিডিওর কমেন্ট বক্সে কোন ইউজার যদি অন্য ইউটিউব চ্যানেলের ইউ আর এল বারবার দেন আর সেক্ষেত্রে যদি উক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপোর্ট করেন তবে সেটিকে স্ট্যাম্প বলে গণ্য করা হবে। 
VII) repetitive কমেন্টস: কোন ইউটিউব ইউজার যদি বারবার কমেন্টস বক্সে একই ধরনের কমেন্টস করে থাকেন তবে সেটিকে স্পেন্ড কমেন্টস হিসেবেই গণ্য করা হয়। সে ক্ষেত্রে উক্ত ইউজার কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইক এর আওতায় পড়বেন। 

খ) video স্পাম: যে সকল ভিডিও কনটেন্ট অতিরঞ্জিত করে আপলোড করা হয়, একই বিষয়ের ঘন ঘন পুনরাবৃত্তি থাকে এবং ভিডিও কনটেন্ট এর বিষয়টি ধোঁয়াশা থেকে যায় সে গুলোকে স্পাম ভিডিও বলা হয়  যেমন:-
I) ভিউয়ারদের কোন কিছু দেখানোর অঙ্গীকার করে সেখান থেকে চাতুর্যপূর্ণ ভাবে অন্য কোন ওয়েবসাইটে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া। 
II) অতি দ্রুত অর্থ ইনকাম করা যাবে এই মর্মে ভিউয়ারদের কে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে ভিউজ, ক্লিক এবং ট্রাফিক পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টাকেউ স্প্যাম হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। 
III) যে সকল ভিডিওতে এমন সব ওয়েবসাইটের লিঙ্ক অন্তর্ভুক্ত থাকে যেগুলোতে প্রকৃতপক্ষে ম্যালওয়ার রয়েছে যেটির উদ্দেশ্য হল ভিজিটরদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা। এগুলো আসলে ভিউয়ারদের উপর একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 
IV) একটি ভিডিও কনটেন্ট একাধিক চ্যানেলে বারবার পোস্ট করা হলেও তাকে ভিডিও স্প্যাম বলা হয়।
গ) Misleading Metadata: Metadata হল ভিডিও টাইটেল, ডেস্ক্রিপশন এবং Tags এ ব্যবহৃত শব্দ শব্দসমষ্টি বা বাক্য যা ওই ভিডিওটির বিষয় সম্পর্কিত। কিন্তু টাইটেল, ডেস্ক্রিপশন কিংবা ট্যাগ সেকশনে এমন কিছু শব্দ বা শব্দসমষ্টি বা বাক্য ব্যবহার করা যা ওই ভিডিও কনটেন্ট এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় এমনটি ব্যবহার করা হলে তখন তাকে মিস Misleading মেটাডাটা বলা হয়। ধরুন আমি ইউটিউব স্প্যাম সম্পর্কিত একটি ভিডিও টিউটোরিয়াল বানালাম আর তাতে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর আনার জন্য ট্রেন্ডিং ট্যাগ হিসেবে Jennifer Lopez কথাটি ভিডিওটির টাইটেল ডেস্ক্রিপশন কিংবা ট্যাগ সেকশনে রেখে দিলাম। ইউটিউব নিশ্চিত ভাবেই এটিকে স্প্যাম বলে গণ্য করবে।  মূলত এই কাজটি কোন কোন ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইচ্ছাকৃতভাবেই করে থাকেন। 

বি.দ্র- তবে ভিউয়ারদের নিজ চ্যানেলের ভিডিও দেখতে, সেটিকে লাইক করতে, ভিডিওর নিচে কমেন্ট করতে সর্বোপরি চ্যানেলকে সাবস্ক্রাইব করতে বলতে পারবেন। এতে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ আপনাকে স্প্যামিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত করবে না।

No comments:

Post a Comment

Infotech Post Bottom Ad New

Pages