আবেগ শুধু নেতিবাচক না ইতিবাচক - জীবন গড়ি প্রযুক্তির সুরে ♫

Post Top Ad

আবেগ শুধু নেতিবাচক না ইতিবাচক

আবেগ শুধু নেতিবাচক না ইতিবাচক

Share This

"আবেগ শুধু নেতিবাচক-না, ইতিবাচক"
 

আমার আগের একটি পোষ্টে লিখেছিলাম,,,
"ভুূল প্রেম প্রাথমিক শিক্ষা"...সেখানে জীবনের ভূলটাকেই আমি বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলাম। আজ আবেগের ইতিবাচক কিছু বিষয় নিয়ে আমার এই লেখা।

আবেগ নিয়ে আমরা অনেক কিছুই বলে থাকি, আসলে ভেবে দেখিনা আবেগের অনেক ভালো দিক রয়েছে,সেটা নিয়ে কেউ ভাবতে চাইনা, শুধু খারাপটা নিয়েই... আলোচনায় মশগুল। আমরা জানি অতি আবেগপ্রবণ মানুষেরা নিজেদের বোকা ভাবে। বিশেষ করে আঘাত বা কষ্ট পেলে। পৃথিবীর বেশির ভাগ আবেগপ্রবণ মানুষের মতো আমারও আবেগ নিয়ে অনেক আবেগপ্রবণ কথা বলার চেষ্টা করি বা বলি, তারপর ভাবলাম, বলা যত সহজ, গুছিয়ে লেখা ঠিক ততটাই কঠিন। তায় সহজ ভাষাই বিস্তারিত কিছু উপস্থাপন করলাম। অনেকেই বলেন বেশি আবেগপ্রবণ মানুষ আসলে বোকা হয়। পরে চিন্তা করে দেখলাম, এ রকমভাবে ভাবাটাই আসলে বোকামি। পৃথিবীর বেশির ভাগ বড় ও ভালো কাজ হয়েছে গভীর আবেগের জায়গা থেকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, নেলসন ম্যান্ডেলা, আইনস্টাইন, এসব গুনি মানুষগুলো  সবাই আবেগপ্রবণ ছিলেন। নিজের আবেগ প্রয়োগ করেছেন বিভিন্নভাবে মানুষের ভালোর জন্য। সাধারণত বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা আবেগের কথা ভাবি না। কিন্তু স্বয়ং আইনস্টাইন বলেছেন, বিজ্ঞানে জ্ঞানের চেয়ে কল্পনার ভূমিকা বড়। আবেগ ছাড়া কল্পনা হয় না। সুতরাং, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও আবেগ প্রয়োজন।

আবেগ হচ্ছে মানুষের মস্তিষ্কের একধরনের সংকেত পদ্ধতি। আমাদের যদি কিছু ভালো না লাগে, তাহলে আমরা রেগে যায়, না হলে আমাদের মনে ভয় অথবা ঘৃণার সঞ্চার হয়। মন খারাপ হয়। কিছু ভালো লাগলে আমরা খুশি হই। এই সংকেতগুলো আমাদের মস্তিষ্ক আগে অনুধাবন করে। সংকেত পেয়ে আমরা আমাদের যুক্তি, অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিই কি করব। সুতরাং, আবেগের জায়গা থেকে বেশির ভাগ মানুষের অবস্থানই কিন্তু এক। খারাপ কিছু দেখলে বেশির ভাগ মানুষ রেগে যায়, মন খারাপ করে, ভয় অথবা ঘৃণা অনুভব করে। এই আবেগ অনুভব করার মধ্যে খারাপ কিছু নেই, বরং যদি এই অনুভূতি না আসে, তাহলে বলতে হবে যে শারীরিক অথবা মানসিকভাবে সেই ব্যক্তি অসুস্থ।

তবে এটা সত্য যে, অনেক সময় আমরা আবেগের বসবর্তি হয়ে ভূল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। তায় এমনটা ভেবেই হয়তো আজ আবেগকে নিয়ে এত সমলাচনা। ফলে আমাদের জৈবিক অভিজ্ঞতা এতই জটিল যে আমরা কোনো ধরনের আবেগ অনুভব করি না। তায় বেশির ভাগ পরিস্থিতিতে আমাদের মনে বিভিন্ন ধরনের আবেগের সঞ্চার হয়।  সঠিক সময়ে অনুভূতিগুলোর যথার্থ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে ঠিকঠাক সিদ্ধান্ত নিতে পারাটাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। তবে হ্যাঁ, আমি আমার মস্তিষ্কের আবেগপ্রবণ মনকে দোষ দিই না। আবেগ আছে বলে আমি আমার দেশকে ভালবাশি,আবেগ আছে বলেই আমি মানুষকে ভালবাতে পারি, আবেগ আছে বলেই বাংলাদেশ জিতলে আনন্দ পাই। তায় আবেগকে নেতিবাচক না ভেবে এর ইতিবাচক দিকটাও একটু ভেবে দেখা দরকার।

আমাদের আবেগ আমাদের ভালো-খারাপ অনেক কিছু বলার চেষ্টা করে। আবেগ কী বলছে সেটা একটু ভালো করে শোনার চেষ্টা করলে হয়তো আমরা আরেকটু সুখী হব। নিজেদের হয়তো অতটা বোকা মনে হবে না।

______মোঃ কামাল হোসেন
                                          .....সবাইকে ধন্যবাদ।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages