Subcribe to our RSS feeds Join Us on Facebook Follow us on Twitter Add to Circles

পৃষ্ঠাসমূহ

.

বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

প্রাথমিক সমাপনী প্রস্তুতি পর্ব-২: Eat healthy Live healthy থেকে সম্ভাব্য সকল প্রশ্ন, এখনই সংগ্রহে রাখুন!


যথারীতি আবার আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা রইল। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতির দ্বিতীয় পর্বে আপনাদের জন্য নিয়ে আসলাম Eat healthy live healthy টেক্সট হতে সম্ভাব্য সকল ধরনের প্রশ্ন যা আপনার সন্তানের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে  আশা করি। আমি পুর্বেই বলেছি পরিকল্পনা ছাড়া কোন কাজে জয়ী হওয়া যায় না।  আমরা সকলেই খরগোশে ও কচ্ছপের গল্পটা জানি, একমাত্র সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার বলেই কচ্ছপ তার কঠোর প্রতিদ্বন্দী খরগোশকে হারিয়ে দিয়ে দৌড়ে জিতেছিল। তাই জিবন দৌড়ে জিততে হলেও পরিকল্পনার কোন বিকল্প নেই। এখন থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হতে শেষ পর্যন্ত এখানেই দেওয়া হবে। তাই যে কোন পোস্টের আপডেট পেতে নিচের বাটনে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে রাখুন।  তো আর কথা নয়, আজ সমাপনী পরীক্ষার প্রস্ততি হিসেবে আপনাদের ও কোমল মতি শিক্ষাথীদের জন্য Eat healthy live healthy অধ্যায়ের সম্ভাব্য সব প্রশ্ন দেওয়া হল। আশা করি আপনাদের কাজে আসবে।


নিচের এক পৃষ্ঠার শিটটি ডাউনলোড করতে, পপ আউট বাটনটিতে ক্লিক করুন, 

দেখবেন আপনি Pdf পেইজটিতে পৌছেগেছেন, সেইখানেই ডাউনলোড লিংক পাবেন। ডান পাশে থাকা ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন।

[ বি:দ্র:- অবশ্যই প্রিন্ট করার সময় ৯/১৪ সাইজের কাগজ  দিয়ে প্রিন্ট করবেন।]




বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন...

রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

পঞ্চম থেকে দশম শ্রেনীঃ জ্যামিতি, পাটিগণিত ও বীজগণিতের যাবতীয় সুত্র সমুহ একত্রে এক জায়গায়!


সকলকে আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও ভালবাসা রইল। আশা করি সকলে ভাল আছেন। ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া বিষয়ক কলামে এবার নিয়ে এলাম গণিতের যাবতীয় সুত্রাবলী একত্রে এক জায়গায়। বিষয় হিসেবে ইংরেজী যেমন আমাদের ও আমাদের ছাত্র তথা সন্তানদের নিকট মাথা ব্যাথার কারন। তেমনি গণিত বিষয়টি ও আমাদের ততখানি ভাবায়। গণিতের যে জিনিসটি আমাদের সবচেয়ে বেশি ভাবায় তা হল, এর বিভিন্ন সুত্র বা সুত্রাবলী। আর তাই আজ আপনাদের জন্য আমার নিজের সংগৃহীত গণিতের যাবতীয় সুত্র সম্বলিত বই -”গাণিতিক সুত্রাবলী”


নিচের  শিটটি ডাউনলোড করতে, পপ আউট বাটনটিতে ক্লিক করুন, 

দেখবেন আপনি Pdf পেইজটিতে পৌছেগেছেন, সেইখানেই ডাউনলোড লিংক পাবেন। ডান পাশে থাকা ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন।

[ বি:দ্র:- অবশ্যই প্রিন্ট করার সময় ৯/১৪ সাইজের কাগজ  দিয়ে প্রিন্ট করবেন।]




বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন...

শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

প্রাথমিক সমাপনী প্রস্তুতি পর্ব-১: Saikat's Family থেকে সম্ভাব্য সকল প্রশ্ন, এখনই সংগ্রহে রাখুন!


সকলকে আমার পক্ষ থেকে সালাম ও শুভেচ্ছা রইল। আশা করি ভাল আছেন। নতুন বছরের শুরুতেই অনেক ছাত্র-ছা্ত্রী যাঁরা মেধাবী তারা ইতোমধ্যেই সমাপনী পরীক্ষার জন্য পড়াশুনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। হবেই না বা কেন? পরিকল্পনা ছাড়া কি কোন কাজে জয়ী হওয়া যায়? আমরা খরগোশে ও কচ্ছপের গল্পটা জানি, একমাত্র সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার বলেই কচ্ছপ তার কঠোর প্রতিদ্বন্দী খরগোশকে হারিয়ে দিয়ে দৌড়ে জিতেছিল। তাই জিবন দৌড়ে জিততে হলেও পরিকল্পনার কোন বিকল্প নেই। এখন থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হতে শেষ পর্যন্ত এখানেই দেওয়া হবে। তাই যে কোন পোস্টের আপডেট পেতে নিচের বাটনে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে রাখুন। আজ সমাপনী পরীক্ষার প্রস্ততি হিসেবে প্রথমে আপনাদের ও কোমল মতি শিক্ষাথীদের জন্য Saikat's Family অধ্যায়ের সম্ভাব্য সব প্রশ্ন দেওয়া হল। আশা করি আপনাদের কাজে আসবে।


নিচের এক পৃষ্ঠার শিটটি ডাউনলোড করতে, পপ আউট বাটনটিতে ক্লিক করুন, 

দেখবেন আপনি Pdf পেইজটিতে পৌছেগেছেন, সেইখানেই ডাউনলোড লিংক পাবেন। ডান পাশে থাকা ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন।

[ বি:দ্র:- অবশ্যই প্রিন্ট করার সময় ৯/১৪ সাইজের কাগজ  দিয়ে প্রিন্ট করবেন।]




বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন...

নতুনদের জন্য খুব সহজ ইনকামের পথ। কমপক্ষে ১$-৫$ প্রতিদিন।

আসসালামুয়ালাইকুন,
দেশে দিন দিন বেকারের সংখ্যা বেরেই চলছে,কারন শিক্ষার হার বেশি আর চাকরি কম।তাই এখন বেশির ভাগ মানুষই অনলাইনের দিকে ঝুকে পরছে,কিন্তু অনলাই এসে মানুষ অনেক ভাবে প্রতারিত হচ্ছে,দেখা যাচ্ছে মাসে ৫ ডলারও আয় করতে পারে না।মানুষ ঝুকে পরে নতুন পিসির দিকে।পিটিসি থেকে ধনী হয়েছে এমন লোকের সংখ্যা কমই আছে।
আজ আপনাদের জন্য যে ট্রিকটি নিয়ে এসেছি এটি দিয়ে যদি আপনি কাজ করেন তাহলে অবশ্যই আপনি আয় করতে পারবেন।এখানে আপনি সারা দিন কাজ করতে পারবেন।কাজের অভাব নেই।



আপনি যদি আমার প্লানটি ফলো করেন তাহলে মাসে কমপক্ষে ৫০$-১২০$ পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।
কাজটি হলো রি ক্যাপচা সলভ ভয় পাবেন না।রিক্যাপচা না চিনলে আপনকে চিনিয়ে দেব।
রিক্যাপচা সলভের কাজ করতে হলে অবশ্যই আপনাকে পিসি বা ল্যাপটপ দিয়ে কাজ করতে হবে।আপনি প্রতি ঘন্টা কমপক্ষে ৬০০-৭০০ রিক্যাপচা সলভ করতে পারবেন।
ধরেন আপনি দৈনিক ৪ ঘন্টা কাজ করলেন এবং ৩০০০ ক্যাপচা সলভ করলেন।প্রতি ১০০০ ক্যাপচা সলভে আপনাকে দিবে ১$ অর্থাৎ ৩০০০ ক্যাপচায় ৩$ আর আপনার মাসিক আয় ৯০$ ডলার যার দাম ৭০০০ টাকা।

আপনার একাউন্টে একটা রেফারেল লিংক পাবেন সেটি দিয়ে আপনার বেকার বন্ধুদের একাউন্ট করান আর তাদেরকে কাজটি শিখিয়ে দিয়ে কাজ করতে বলুন।তাহলে তারা যা আয় করবেন তার ১০% আপনি পাবেন বোনাস হিসেবে।মনে করুন আপনার বন্ধু ৭০ ডলার আয় করল তাহলে আপনি সেখান থেকে পাবেন ৭ ডলার।এভাবে যদি আপনার ৫ জন বন্ধু কাজ করে তাহলে আপনি বোনাস পাবেন ৩৫$ আর ১০ জন কাজ করলে ৭০$.
এখন চিন্তা করুন আপনার আয় কেমন হবে।মনে করুন আপনি কাজ করে পেলেন ৯০$ আর আপনার বন্ধুদের কাছ থেকে পেলেন ৭০$ তাহলে মোট আয় হবে ১৬০$ যার মূল্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা।

আসুন এবার আমরা রিক্যাচা চিনিঃ
অনেক সময় অনেক সাইটে একাউন্ট করতে গেলে অথবা লগইন করতে গেলে এটি দিতে হয়।নিচের ছবিতে দেখুনঃ
I am not robot এটাই হল রিক্যাপচা।এটা সলভ করতে হলে I am not robot এই লেখার উপর ক্লিক করতে হবে।ক্লিক করার পর ৯ টা ফটো পাবেন সেখান থেকে ৩ কিংবা ৪ টা ফটো সিলেক্ট করতে হবে ফটোর উপরে ক্লিক করলে সিলেক্ট হয়ে যাবে এবং কোন ফটো গুলো সিলেক্ট করতে হবে তা উপরে লেখা থাকবে।সিলেক্ট করা শেষে ভেরিফাই এ ক্লিক করতে হবে।নিচের ফটোতে দেখুনঃ
এবার নিচের লিংক থেকে রেজিস্টেশন করে নিন আর কাজ শুরু করুন।
রেজিস্টেশন করুন

কম্পিউটার ব্যবহার কারিরা নিচের লিংক থেকে সফ্টওয়ার নামিয়ে সফ্টাওয়ার এর ম্যাধ্যমে কাজ করবেন।নিচের লিংক থেকে নামিয়ে নিনঃ
কম্পিউটার এর জন্য সফ্টওয়ার এর জন্য ক্লিক করুন।

মোবাইল থেকে কাজ করলে রিক্যাপচার কাজ করতে পারবেন না।তবে নরমাল ক্যাপচার কাজ করতে পারবেন।মোবাইল দিয়ে প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা কাজ করে ১$ এর মত আয় করতে পারবেন।মাসে ৩০-৪০ ডলার আয় করতে পারবেন।

যারা একাউন্ট খুলতে পাররছেন না বা মোবাইলে কাজ করতে চান তারা নিচের পোস্টটা দেখুন।
ক্যাপচা এন্ট্রির কাজ করে মাসে ১০০$-১৫০$ আয় করুন।

আর কোন সম্যস্যা থাকলে কমমেন্ট করবেন।
পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন...

শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

আমার লেখা English Grammar Basic rules এর Lecture sheet দিলাম এখনই ডাউনলোড করুন!

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি সকলে ভালই আছেন। পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়া বিষয়ক কলাম থেকে আপনাদের সকলকে স্বাগতম। আমার আগের পোস্টগুলো যাঁরা এখনও পড়েননি, তারা চটজলদি পড়ুন আর ডাউনলোড করে নিন। প্রাথমিক শিক্ষা নীতি অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রামার বা ব্যকরণ শেখানো ততটা আইন সিদ্ধ নয়, তবুও পঞ্চম শ্রেনী যেহেতু প্রান্তিক শিক্ষা সেহেতু এই পর্যায়ে এসে শিক্ষার্থীদের কিছুটা আনুষ্ঠানিক ব্যাকরণ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আছে বৈ কি। তাই আমার লেখা Grammar Basic নামের এই লেকচার শিটটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম, আশা করি একজন শিক্ষক ও অভিভাবক হিসাবে এই শিটটি আপনার শিশু সন্তান ও ছাত্রদের কাজে আসবে।  

নিচের এক পৃষ্ঠার শিটটি ডাউনলোড করতে, পপ আউট বাটনটিতে ক্লিক করুন, 

দেখবেন আপনি Pdf পেইজটিতে পৌছেগেছেন, সেইখানেই ডাউনলোড লিংক পাবেন। ডান পাশে থাকা ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন।

[ বি:দ্র:- অবশ্যই প্রিন্ট করার সময় ৯/১৪ সাইজের কাগজ  দিয়ে প্রিন্ট করবেন।]




বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন...

বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

এক নজরে এক পাতায় সকল Tense এর গঠন ও এর ব্যাখ্যা যা আপনার ছাত্র ও সন্তানের কাজে আসবেই!


সকলকে আবারও আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, আশা করি সকলেই ভাল ও সহি সালামতে আছেন। আপনারা হয়ত ইংরেজী গ্রামার বিশেষ করে Tense বা কাল নিয়ে বেশ চিন্তায় থাকেন বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীরা তো আরও অনেক বেশি। কারন এই সময়টি তাদের বাকী জীবনের ভিত গড়ে দেয়, এই স্তরে যদি কোন রকমের দুর্বলতা থাকে, তবে তাকে সেই অক্ষমতা সারা জীবন তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। তাই একজন শিক্ষক বা অভিভাবক হিসাবে আপনি নিশ্চয় চাইবেন না, আপনার অতি প্রিয় শিক্ষার্থীর/সন্তানের Tense বিষয়ে কোন দুর্বলতা থাকুক। তাই আপনাদের ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমার তৈরী করা এক নজরে Tense শিটটি এক্ষনই নামিয়ে রাখুন। 

আপনার শিক্ষার্থীদের প্রথমে Tense সম্পর্কে সার্বিক ধারনা দিন, Tense সম্পর্কে একটি সার্বিক ধারনা পাওয়ার পর তাদের হাতে এই শিটটি তুলে দিন। এটি তাদের ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। এই শিটটিতে সকল প্রকার Tense কে অতি সুন্দরভাবে উপস্থাপনে চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনাদের সকলের খুব কাজে আসবে। 

নিচের এক পৃষ্ঠার শিটটি ডাউনলোড করতে, পপ আউট বাটনটিতে ক্লিক করুন, 

দেখবেন আপনি Pdf পেইজটিতে পৌছেগেছেন, সেইখানেই ডাউনলোড লিংক পাবেন। ডান পাশে থাকা ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন।

[ বি:দ্র:- অবশ্যই প্রিন্ট করার সময় ৯/১৪ সাইজের কাগজে Landscape দিয়ে প্রিন্ট করবেন।]



বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন...

মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০১৭

পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দিলাম কিছু কমন Verb এর তালিকা(List), এক্ষনই নামিয়ে রাখুন!


সকলকে Infotechlife.com এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাই। আশা করি সকলেই ভাল আছেন, কিছু ব্যক্তিগত কারনে আপনাদের সামনে আসতে পারিনি সে জন্য প্রথমে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে শুরু করছি। কথা না বাড়িয়ে কাজে চলে যাই, বছরের প্রথম তাই পঞ্চম শ্রেনীতে যারা এই বছর সমাপনী পরীক্ষা দেবে, তাদের কথা মাথায় রেখেই আজ আমার এই পোস্টটি, আপনাদের সামান্যতম কাজে আসলেই আমার পরিশ্রম স্বার্থক বলে মনে করি।

যদিও পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রদের আনুষ্ঠানিকভাবে(Formally) গ্রামার বা ব্যকরণ শেখানো কোন সুযোগ নেই তথাপি Tense বা কাল ভেদে Verb বা ক্রিয়ার যে রুপের পরিবর্তন হয় তা বোঝাতে গিয়ে আমরা শিক্ষকরা বেশির ভাগ সময় গলদঘর্ম হয়ে পড়ি। কখনো কখনো বা নিরুপায় হয়ে অবশেষে ছাত্রদের গ্রামারের দুবোধ্য নিয়ম ‍মুখস্থ করতে বাধ্য হই। এতে করে তাদের মাঝে একরকমের গ্রামার ভীতি তৈরী হয়। ফলে তারা লেখা পড়া বিমুখ হয়ে যায়। এখন আমি যে কথাগুলো বলব, সেগুলো পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রদের জন্য প্রযোজ্য নয়, এটি শুধু আপনার মত একজন্য কৌশলী শিক্ষকের জন্য তো, শুনুন

ইংরেজীতে Verb এর তালিকা ঘাঁটলে আমরা দুই ধরনের Verb দেখতে পাই,  যথা-
(১) Regular Verb বা ‍Strong Verb
(২) Irregular Verb বা Weak Verb

১ নং অর্থাৎ Regular Verb এর রুপান্তর করা খুবই সোজা। এক্ষেত্রে Verb এর ব্যাসিক ফরমের(Present form)শেষে শুধু d/ed যোগ করলেই রুপান্তর হয়ে গেল। এগুলো আসলে খুবই সহজ। 
তবে Irregular অর্থাৎ Weak Verb গুলো একটু ব্যাতিক্রম, কিন্তু আশার কথা হল এগুলো  সংখ্যায় বেশি নয়। তো এগুলো আপনার ছাত্রদের মুখস্থ করান আর বাকী Verb গুলোতে উপরের নিয়ম অনুসরণ করান তা হলেই কেল্লা ফতে...
নিচের শিটে প্রযোজনীয় প্রায় সকল Irregular Verb এর তালিকা দেওয়া হল, এগুলো মুখস্থ করিযে আপনার শিক্ষার্থী বা সন্তানকে অন্য সকল Verb বা ক্রিয়ার সাথে d/ed যোগ করে রুপান্তর করতে বলুন। আশা করি আর কোন সমস্যা হবেনা। 

নিচের দুই পৃষ্ঠার শিটটি ডাউনলোড করতে, পপ আউট বাটনটিতে ক্লিক করুন, 


দেখবেন আপনি Pdf পেইজটিতে পৌছেগেছেন, সেইখানেই ডাউনলোড লিংক পাবেন। ডান পাশে থাকা ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন। 


বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন...

বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৬

সোনায় মোড়ানো প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাইভেট বোয়িং বিমান 757 !

বর্তমানে পৃথিবীর একটি আলোচিত নাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সকল জনমত জরিপ, হিলারি আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে পায়ে ঠেলে মার্কিন ভোটিং সিস্টেমের ফাইয়দা উঠিয়ে তিনিই এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যত প্রেসিডেন্ট। বিলাসী জীবন-যাপন, বিতর্কিত ব্যাক্তিত্ব এবং একজন জাত ব্যবসায়ী হিসেবেই সকলেই মার্কিন মুলুকে তাঁকে চিনত। রাজনীতির  ‘র’ না জেনেও যিনি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বনেগেছেন। ব্যপক বৈচিত্রে ভরা এই ব্যাক্তিটির সম্পর্কে যাই লেখা হউক না কেন, তা তার যথেষ্ট নয়( হা! হা! হা!) ........... ৯৮০ কোটি মার্কিন ডলারের এই বিজনেস টাইকুনের একটি প্রাইভেট প্লেন থাকতেই পারে। কিন্তু কি এমন রয়েছে এই প্লেনে!  যা তাকে আর দশটা প্লেন থেকে আলাদা করেছে? হ্যাঁ প্রিয় পাঠক, ইনফোটেক লাইফ.কম আজ আপনাদের জানাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবহৃত ব্যাক্তিগত প্লেন বোয়িং 757 সম্পর্কে যা জানলে আপনিও অবাক হবেন। তো আসুন শুরু করা যাক---


১. ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাইভেট বোয়িং 757 বিমানটি হল পৃথিবীর অষ্টম ব্যয়বহুল বিমান যার মুল্য $100 মিলিয়ন(ডলার)। 

২. বোয়িং 757 এ পাইলটদের জন্য রযেছে Glass Cockpit সুবিধা, যেটিকে বিশাল কম্পিউটারাইজড স্ক্রিন সম্বলিত একটি এয়ারক্রাফ্ট ককপিট হিসেবেও মনে করতে পারেন যাতে ফ্লাইটের যাবতীয় তথ্য এক নজরে দেখে নেওয়া যাবে। জরুরী প্রয়োজনে কোন সম্যস্যা দেখাদিলে বিমানটি নিজেই তার ফিডব্যাপ লুপ(Feedback loops and Self checking alert!) ও স্বয়ংক্রিয় চেকিং এলার্টের মাধ্যমে পুর্বে তার পাইলটকে জানিয়ে দেবে। 

3.  ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোয়িং 757 বিমানটি পৃথিবীর দ্রুততম বিমানগুলোর মধ্যে একটি। Rolls-Royce Engine এর জন্য এটি সর্বোচ্চ ৫০০ মাইল বেগে ছুটতে পারে। 

৪. সাধারন বোয়িং 757 বিমাগুলো ২৩৯ জন যাত্রী বহনে সক্ষম হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিমানটিতে মাত্র ৪৩ জনের আসন ব্যবস্থা। 

৫. প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের এই বিমানটিতে রয়েছে বহুবিধ সুবিধা যেমন, বেডরুম, ডাইনিং রুম একটি প্রাইভেট গেস্টরুম। ২৪ ক্যারেটের সোনা ‍দিয়ে মোড়ানো একটি একটি গোসল খানাও রয়েছে।  সিনেমা সিস্টেম সম্বলিত একটি ভিডিও রুমও রয়েছে চিত্ত বিনোদন ও আরাম আয়েশের জন্য।  

৬. এই বিমানটিতে ভ্রমন মোটেও সস্তা নয়, শুনে অবাক হবেন যে, এতে প্রতি ঘন্টায়  জ্বালানীসহ খরচ পড়ে ১০৮০০ ইউএস ডলার। 

৭. বিলাস বহুল এই বিমানটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে যার প্রকৃত মালিক ছিলেন, মাইক্রোসফট এর প্রতিষ্ঠাতা পল এ্যালেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি কিনে নেন। 

৮. শুনতে খারাপ লাগলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিমানটি এয়ার ফোর্সের বোয়িং বিমানের ন্যায় ততটা লম্বা ও প্রশস্ত নয়। 

৯. মোদ্দা কথা ট্রাম্পের  এই বিমানটি এতটাই বিলাসবহুল যে, এটি তার নির্বাচনী প্রচারনায় বলা সেই বিখ্যাত উক্তিটিকেই বার বার আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় “ We will make America Great again!"
বিমানটি সম্পর্কে আরও জানতে এই ভিডিওটি একবার দেখুন-


ভাল থাকবেন সবাই।

বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন...

সোমবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৬

হিলারি ক্লিনটন এবং বারাক ওবামাই ইসরায়েলের স্বার্থে সিরিয়াকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে! - উইকিলিকস

সম্প্রতি উইকিলিকসের ফাঁস করা হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল থেকে জানা যাচ্ছে যে, তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েলকে সাহায্য করার সবোত্তম উপায় হিসেবে সিরিয়ায় সরকার পরিবর্তন তথা সিরিয়ার বাসার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সিরিয়ায় যুদ্ধের জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। (সুত্র: Newobserveronline.com)

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের অনেকগুলো আন-ক্লাসিফাইড ইমেইলের মধ্যে এই নথিটি(case number F-2014-20439, Doc No. C05794498) তিনি যখন ২০০৯ হতে ২০১৩ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন তখনকার তার প্রাইভেট ইমেল সাভার হতে পাওয়া যায়। অথচ মার্কিন রীতি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন পদে আসীন কোন ব্যক্তি রাষ্টীয় কোন বিষয়ে ব্যাক্তিগত ইমেইল সার্ভার ব্যবহার করতে পারবেন না।

এই ইমেইল থেকে এটা পরিস্কার যে, একেবারে শুরুথেকেই সিরিয়ার বাসার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়টি মার্কিন বিদেশ নীতির একটি অংশ ছিল এবং বিশেষভাবে তা করা জরুরী ছিল ইসরায়েলের স্বার্থে।



ইমেইল টিতে হিলারি বলেন, “The best way to help Israel deal with Iran’s growing nuclear capability is to help the people of Syria overthrow the regime of Bashar Assad,” ( অর্থ- ইরানের ক্রম প্রসারমান নিউক্লিয়ার সক্ষমতার দিকটি মাথায় রেখে ইসরায়েল সরকারকে সহায়তার সবচেয়ে ভাল উপায় হল  সিরিয়ার লোকদের বাসার আল আসাদের শাসন হতে মুক্ত হতে সাহায্য করা।)

যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রিপোর্টে ইরানের পারমানবিক বোমার বিষয়টি একটি একটি ফাঁকা বুলি বলে উড়িয়ে দিয়েছিল, তবুও হিলারি ক্লিন্টন ইসরায়েলের স্বার্থে সিরিয়াকে ধ্বংস করার জন্য এই মিথ্যাকে বারবার ব্যবহার করেছেন, ঠিক যেমনটি ইরাককে ধ্বংস করার জন্য সাবেক মার্কিন   প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ করেছিলেন।

ইরানের কাল্পনিক পারমানবিক কর্মসুচীকে হিলারি সিরিয়ার সংগে জুড়ে দিয়েছিলেন তার কারন ছিল, তিনি বলেছিলেন, ইরানের পারমানবিক কর্মসুচী ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে পারমানবিক অস্ত্রের বিস্তারের বড় হুমকি।
তিনি বলেন যদি ইরান পারমানবিক অস্ত্র পেয়ে যায় তবে তা এক সময় সিরিয়ার( এবং ইসরায়েলের অন্যান্য প্রতিদন্দ্বী  সৌদি আরব ও মিশর ) হাতেও চলে যাবে, এবং এ সব কিছুই তখন ইসরায়েলের স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।   তাইতো হিলারির কথা, ‘সিরিয়াকে ধ্বংস হতে হবে।’


Iran’s nuclear program and Syria’s civil war may seem unconnected, but they are. What Israeli military leaders really worry about — but cannot talk about — is losing their nuclear monopoly.

An Iranian nuclear weapons capability would not only end that nuclear monopoly but could also prompt other adversaries, like Saudi Arabia and Egypt, to go nuclear as well. The result would be a precarious nuclear balance in which Israel could not respond to provocations with conventional military strikes on Syria and Lebanon, as it can today.

If Iran were to reach the threshold of a nuclear weapons state, Tehran would find it much easier to call on its allies in Syria and Hezbollah to strike Israel, knowing that its nuclear weapons would serve as a deterrent to Israel responding against Iran itself.



হিলারি আরও বলেন, ইরান ও বাসার আল আসাদের সম্পর্ক কৌশলগত সম্পর্ক এবং এই সম্পর্কই

ইরানকে ইসরায়েলের শক্তি ও নিরাপত্তাকে খাটো করে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। অবশ্য ক্লিন্টন এটা স্বীকার করেন যে, এটা করতে হবে কোন সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, কারন বিগত ৩০ ভছরের মধ্যে ইরান ও ইসরায়েল সরাসরি যুদ্ধে জড়াইনি ইরান সুকৌশলে এই কাজটি সিরিয়ার বাসার আল আসাদ ও তার মদদপুষ্ট হামাস ও হিজবুল্লাহ মাধ্যমে প্রক্সি ওয়ার চালিয়েগেছে। তাই রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে বাসার আল আসাদ ও তার পরিবারকে সরিয়ে দেওয়াটাই মুল কাজ।

In short, the White House can ease the tension that has developed with Israel over Iran by doing the right thing in Syria.With his life and his family at risk, only the threat or use of force will change the Syrian dictator Bashar Assad’s mind.

হিলারির এই ইমেইল বার্তাটিই প্রমান করে, মধ্যপ্রাচ্যে আমরা আজ যে, ধ্বংস যজ্ঞ দেখছি আমেরিকাই তার মুল স্পন্সর । একটি মুল বিষষ যেটি মাথায় রাখতে হবে তা হল, লক্ষ লক্ষ রিফিউজি সমস্য যা আজ পুরো ইউরোপকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গেছে তার মুলে রয়েছে আমেরিকা সরকারের নেওয়া এই পদক্ষেপ। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে যত মানুষ রিফিউজি হয়েছে তা এযাবত কালে আর কখনো হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। সিরিয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত প্রান গেছে ২৫০ ০০০ জনের যা ছড়িয়ে পড়েছে সুদুর ইরাক পর্যন্ত। ক্লিনটন এবং ওবামা মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা ও তাদের উস্কে দেওয়া যুদ্ধের আগুন এজন্য তারা ধন্যবাদ পেতেই পারেন। আমাদের বিশ্ববাসীর কি করুন নিয়তি বলেনে? যার ইসরায়েল ঘেষা নীতির কারনে আজ লক্ষ লক্ষ মানুষের জিবন ছিন্ন বিছিন্ন সেই মানুষটিকেই আমরা হয়তবা পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেতে যাচ্ছি। ক্লিন্টন তাই তো গর্ব ভরেই ঘোষনাদেন, তিনি মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে তিনি পরবতী স্তরে নিয়ে যাবেন। তার মানে প্রাইমারী লেভেলেই আজ পুরো পৃথিবী টালমাটাল আর না জানি পরবর্তী স্তরে কি অপেক্ষা করছে পুরো বিশ্ববাসীর জন্য। ইসরায়েল যে শুধু আজ মধ্য প্রাচ্যের কতগুলো দেশের জন্য হুমকি তা নয় বরং সারা পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষের জন্য মহাক্রান্তি কালের আর এক নাম।  তার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিসের এবং কেন এত বন্ধুত্ব? না কি এর অন্তরালে রয়ে অন্য কোন হিসেব নিকাশ।  লোকচুক্ষর অন্তরালে বসে কারা নিয়ন্ত্রন করছে আমাদের এই ধরীত্রিকে? ......
বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন...

বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৬

প্রসঙ্গ- মধ্যপ্রাচ্যঃ রহস্য ঘেরা ইয়াজিদী সম্প্রদায়, তাদের উৎপত্তি, ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি যা জানলে আপনি অবাক হবেন।

বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে মধ্যপ্রাচ্যে আইএস এর উথ্থানের পর যে সম্প্রদায়টি সবচেয়ে বেশি অত্যাচারের শিকার হয়েছে, সেই সম্প্রদায়টির নাম হল ইয়াজিদি সম্প্রদায়। এদের কম-বেশি ৫০ হাজার সদস্য আটকা পড়েছেন উত্তর-পশ্চিম ইরাকের পাহাড়ি এলাকায়। রহস্যময় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কারণে ইয়াজিদিদের নিয়ে বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। কিন্তু কারা এই ইয়াজিদি কিভাবে তাদের উৎপত্তি, কি তাদের ধর্ম বিশ্সাস, কেনই বা তাদের প্রতি অন্যান্য মুসলিমদের এত রাগ।ক্রোধ বুঝতে হলে আমাদের জানতে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে ইয়াজিদিদের অবস্থান ও তাদের ধর্ম বিশ্বাস। আজকে আলোচনায় আমরা ইয়াজিদিদের নিয়ে একটু নাতিদীর্ঘ আলোচনা করব।

আইএসসহ (আগের নাম আইএসআইএল বা ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট) সুন্নি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিশ্বাস, ইয়াজিদি নামটি এসেছে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার নাম থেকে। উমাইয়া বংশের দ্বিতীয় খলিফা (৬৪৭-৬৮৩) ইয়াজিদ অত্যন্ত অ-জনপ্রিয় ও ঘৃণিত এক শাসক ছিলেন। ইয়াজিদিগণও নিজেদেরকে উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার সমর্থকদের উত্তরসূরী বলে ভাবে। তবে আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এ গোষ্ঠীর নামটির সঙ্গে খলিফা ইয়াজিদ বা পারস্যের (প্রাচীন ইরান) শহর ইয়জদের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং নামটি নেওয়া হয়েছে আধুনিক ফার্সি ‘ইজদ’ থেকে, যার অর্থ হচ্ছে দেবদূত বা দেবতা। তা থেকে ইয়াজিদি শব্দের সাধারণ অর্থ হচ্ছে, ‘ঈশ্বরের উপাসক’। ।ইয়াজিদি ধর্মবিশ্বাসটি Zoroastrian, Manichaean, Jewish, Nestorian Christian ও Islamic উপাদানসমূহের বৈপ্যরীত্যের সমন্বয়ে (syncretic combination) গড়ে উঠেছে। তারা নিজেরা বিশ্বাস করে, তাদের সৃষ্টি হয়েছে অবশিষ্ট মানবজাতি থেকে বেশ পৃথকভাবে, এমনকি তারা আদমের বংশধরও নয়। আর তাই তারা নিজেদেরকে কঠোরভাবে সেইসব লোকদের থেকে পৃথক করে রাখে, যাদের মাঝে তারা বসবাস করে। যদিও তারা ছড়িয়ে রয়েছে এবং সংখ্যায় তারা ১ লক্ষেরও কম, তথাপি তাদের রয়েছে সুসংগঠিত সমাজ ব্যবস্থা; রয়েছে জাতি বা গোষ্ঠির প্রধান হিসেবে একজন আমীর বা প্রিন্স এবং সুপ্রিম ধর্মীয় প্রধান হিসেবে একজন chief shaykh.

ইয়াজিদি বা এজিদি হচ্ছে একটি কুর্দি নৃ-ধর্মীয় গোষ্ঠী, যাদের রীতিনীতির সাথে জরথুস্ত্র ধর্মমতের সাদৃশ্য রয়েছে। ইয়াজিদিগণ প্রধানত উত্তর ইরাকের নিনেভেহ প্রদেশে বসবাস করে। আমেরিকা, জর্জিয়া এবং সিরিয়াতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইয়াজিদিদের সাক্ষাৎ মেলে। ১৯৯০ সালের দিকে ইয়াজিদিদের একটা অংশ ইউরোপে বিশেষ করে জার্মানীতে অভিবাসিত হয়। ইয়াজিদিগণ বিশ্বাস করেন, ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি সাতটি পবিত্র জিনিস বা ফেরেশতার মাঝে এটাকে স্থাপন করেছেন। এই সাতজনের প্রধান হচ্ছেন মেলেক তাউস, ময়ূর ফেরেশতা। ইয়াজিদিদের বর্ণিত তাউসের সাথে ইসলাম ধর্মে বর্ণিত শয়তানের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। এমনকি স্বর্গ থেকে শয়তান ও মেলেক
তাউসের বিতাড়নের কাহিনী একই, আদমকে সিজদা না করা।

ধর্মীয় রীতি

প্রার্থনা

ইয়াজিদিরা দিনে পাঁচবার প্রার্থনা করে। নিভেজা বেরিস্পেদে (ভোরের প্রার্থনা), নিভেজা রোঝিলাতিনে (সূর্যোদয়ের প্রার্থনা), নিভেজা নিভ্রো (দুপুরের প্রার্থনা), নিভেজা এভারি (বিকেলের প্রার্থনা), নিভেজা রোজাভাবুনে (সূর্যাস্তের প্রার্থনা)। বর্তমানে ইয়াজিদিগণ শুধুমাত্র সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের প্রার্থনা করে থাকে।

সূর্যোদয়ের প্রার্থনার সময় ইয়াজিদিগণ সূর্য পূজারীদের মত সূর্যের দিকে এবং সূর্যাস্তের নামাজের সময় লালিস(ইরাকের একটি স্থানের নাম) এর দিকে মুখ করে থাকে।  দিনের সকল প্রার্থনা সূর্যের দিকে ফিরে পড়া হয়। বহিরাগতদের উপস্থিতিতে দিবসের প্রার্থনা হয় না। বুধবার হচ্ছে তাদের পবিত্র দিন এবং শনিবার বিশ্রাম দিবস।ডিসেম্বর মাসে তারা তিন দিনের রোজা পালন করে

উৎসব

লালিসে অবস্থিত সেক্স আদির মাজার
ইয়াজিদিদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের একটি হচ্ছে ইরাক এর উত্তর মসুলের লালিস এ অবস্থিত শেখ আদি ইবনে মুসাফির (সেক সাদি) এর মাজারে সাতদিনের হজ্বব্রত বা তীর্থভ্রমণ পালন। যদি সম্ভব হয় প্রত্যেক ইয়াজিদি তাদের জীবদ্দশায় একবার সেক সাদির মাজারে তীর্থভ্রমণের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। তীর্থভ্রমণের সময় তারা নদীতে গোছল করে। তাউস মেলেকের মূর্তি ধৌত করে এবং শেখ সাদির মাজারে শত প্রদ্বীপ জ্বালায়।  এই সময়ে তারা একটি ষাঁড় কুরবানী করে।

ইয়াজিদিরা ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআন এবং খ্রিষ্টধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেল উভয়কেই শ্রদ্ধা করে থাকে।  তাদের নিজস্ব ধর্মীয় প্রথাগুলোর বেশির ভাগই মৌখিক।  এমন ভুল ধারণাও রয়েছে যে ইয়াজিদি মতবিশ্বাস জরথুস্ত্রবাদ (প্রাচীন পারস্য ধর্মীয় বিশ্বাস ও দর্শন, যার অনুসারীরা অগ্নি উপাসক ছিলেন) মতবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

ব্যাপ্টিস্ট খ্রিষ্টানদের মতো ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের শিশুদের সর্বাঙ্গ পবিত্র পানিতে ডুবিয়ে দীক্ষা দেন একজন পীর। ডিসেম্বর মাসে ইয়াজিদিরা তিন দিন রোজা রাখে। পরে পীরের সঙ্গে সুরা পান করে।  সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখ ইয়াজিদিদের বার্ষিক তীর্থযাত্রার সময়। এ সময় তারা মসুল শহরের উত্তরে অবস্থিত লালেশ এলাকার শেখ আদির মাজারে গিয়ে নদীতে ওজুর মতো করে পবিত্র হয়। এ ছাড়া ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের মধ্যে পশু উৎসর্গ করা এবং খতনা দেওয়ার প্রথাও রয়েছে। । ইয়াজিদিদের সর্বোচ্চ দেবতার নাম ইয়াজদান। সাতটি মহাত্মার উৎস ইয়াজদান। এর মধ্যে প্রধান মালাক টাউসকে দিনে পাঁচবার উপাসনা করে ইয়াজিদিরা।

Yazidi: শয়তানের পূজারী এক জনগোষ্ঠি

ইয়াজিদি (Yazidi or Yezidi, Azidi or Izdi) সম্প্রদায়ের উদ্ভব শেখ আদি ইবনে মুসাফির (Sheikh‘Adī ibn Musāfir)এর মাধ্যমে। এই আদি, বর্তমান লেবাননের বা’কা উপত্যাকায় (Beqaa Valley) ১০৭০ সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উমাইয়া খলিফা মারওয়ান বিন আল-হাকামের একজন উত্তরসূরী।  তিনি বালবেকের নিকটস্থ বৈৎ ফার (Bait Far) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। সেখানে তার জন্মগ্রহণ করা গৃহটি আজও রয়েছে, আর তা এখন ইয়াজিদিগণের পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত।  ইয়াজিদিগণ আদিকে “তাউস মালেক” বা ময়ূর ফেরেস্তার একজন অবতার বা দেবতা হিসেবেই বিবেচনা করে।  ইরাকের লালিশে অবস্থিত তার সমাধিটি ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের প্রধান তীর্থস্থান।

Tawûsê Melek বা ময়ূর ফেরেস্তা
শেখ আদি তার জীবনের প্রথম দিকের অধিকাংশ সময়টা বাগদাদে কাটিয়ে দেন। সূফি জীবন-যাপন এবং একাকী তপস্যার লক্ষ্যে তিনি কুর্দিস্থানের একটি শান্ত এলাকা বেঁছে নেন। ঐ এলাকাটি আদিবাসী ইরানী ধর্মীয় আন্দোলন যেমন, জরথুস্ট্রবাদের (Zoroastrianism) সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত।  নি:সঙ্গ একাকী জীবন-যাপন ছাড়াও তিনি তার তপশ্চর্যা ও আলৌকিকতা দ্বারা স্থানীয় লোকদেরকে প্রভাবান্বিত করেন। বলা হয়ে থাকে, আদি ছিলেন মধ্যম মর্যাদার এবং অনেক পরিশোধিত। ইয়াজিদিগণ তাকে বসিয়ে দেন তাদের জাতীয় গুরুর (national saint) আসনে।  আদি স্মরণীয় ও বরণীয় ছিলেন তার সন্যাস জীবন-যাপনের জন্যে। তিনি একটি ধর্মপ্রথার প্রবর্তন করেন এবং তার অনুসারীগণ তার নামানুসারে “al-Adawiya” হিসেবে পরিচিত। তিনি মসূলের উত্তরে Hakkari Kurds পর্বতে নিজ আশ্রমে বসবাস করতেন এবং ১১৬০-৬২ সিইতে ৯০/৯২ বৎসর বয়সে সেখানেই মারা যান। তার মৃত্যুর পর, তার উত্তরসূরীগণ সেখানেই বসবাস করতে থাকে।

আদির সমাধিটি বদরী পল্লীর মাঝে তিনটি কৌণিক গম্বুজ দ্বারা সহজ নির্দেশিত।  উৎসবের সময় তার সমাধিস্থলে অনেক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। রাত্রীকালীন টর্চলাইট শোভাযাত্রা, সবুজ pall (যা দিয়ে সমাধিটি আচ্ছাদিত করা হয়েছে) এর প্রদর্শনী, বড় বড় খাঞ্চায় ধোঁয়া ওঠা হারিশার (ঘন দুধে ছোট ছোট টুকরার মাংস বা সবজি রান্না) পরিবেশন ঐ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ। তার অনুসারীগণ বিশ্বাস করে- তিনি ঈশ্বরের একজন অবতার। E.S. Stevens তার “Tigris and Euphrates” পুস্তকে শেখ আদির সমাধি মন্দিরের বর্ণনা দিয়েছেন এমন-

শেখ আদির সমাধি।
“প্রবেশ দ্বারের সম্মুখ প্রাঙ্গনটিতে বিভিন্ন ধরণের ছোট ছোট ইমারত রয়েছে। মালবেরী গাছের ফাঁক গলে সূর্য্যরশ্মি সেগুলির বহির্ভাগ ও প্রাঙ্গনে চৌকোণাকার নকশা তৈরী করেছে। প্রবেশ দ্বারটি দেয়ালের সর্ববামে। পাথরে খোঁদিত অদ্ভূত যাদুকরী চিহ্নের কারণে সেটি বেশ কৌতুহল উদ্দীপক। আর এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে বৃহৎ এক উলম্ব সর্পের প্রতিকৃতি। সতর্কতার সাথে কাল রঙে রঞ্জিত এই প্রতিকৃতিটি বসান হয়েছে প্রবেশ দ্বারের দক্ষিণে। পূণ্যার্থীগণ শয়তানের এই প্রতিকৃতিতে চুম্বন দেয়। মন্দিরের অভ্যন্তরভাগ অন্ধকার, নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে। ...আর প্রদীপের ফোঁটা ফোঁটা তেল পড়ে মেঝেও বেশ পিচ্ছিল।

ধর্মগুরুর আশীর্বাদ।
মন্দিরের উত্তরপাশে রয়েছে একটা বেঁদী বা চ্যাপেল, এটিকে তারা "শেখ হাসান" বলে অভিহিত করে। এখানে রয়েছে নৌকার আকৃতির একটি সিন্দুক বা সমাধি, যার উপরে বিছান রয়েছে সিল্কের কাপড়, আর তার ঝালর ঢেকে ফেলেছে সেটির চারিধার। এখান থেকে আবার একটা নীচু দরজা দ্বিতীয় আর একটা চ্যাপেলের সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে শেখ আদির নিজের সমাধি।”

Tawûsê Melek বা ময়ূর ফেরেস্তা (Peacock Angel)-কে কেন্দ্র করে ইয়াজিদি ধর্মবিশ্বাস গড়ে উঠেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে এলাকায় এই ময়ূর ফেরেস্তার উপাসনা করা হয়, সেখানে কিন্তু এই ময়ূর স্থানীয় নয়। যাইহোক, এই ময়ূর ফেরেস্তা আর কেউ নন, স্বয়ং আযাজিল বা ইবলিস। ইয়াজিদি বিশ্বাসের ভিত্তি Black Book “Kitêba Cilwe” বা “Book of Illumination”-কে মালেক তাউসের বাণী বলে বিশ্বাস করা হয়। ঐ কিতাবে বলা হয়েছে- “I was present when Adam was living in Paradise, and also when Nimrod threw Abraham in fire.”

শয়তানের প্রতিমুর্তি
ইয়াজিদি বিশ্বাস মতে খোদা বিশ্ব সৃষ্টির পর তা সাত পবিত্র আত্মা বা ফেরেস্তার তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দেন। এই সপ্তকের মধ্যে প্রধান ছিলেন তাউস মালেক বা ময়ূর ফেরেস্তা। এই তাউস মালেককে মুসলিম এবং খৃষ্টানগণ শয়তান হিসেবেই চিহ্নিত করে থাকেন। অন্যদিকে ইয়াজিদিগণ বিশ্বাস করে, তিনি অমঙ্গল বা wickedness -এর উৎস নন। তারা তাকে পতিত ফেরেস্তা নয়, বরং ফেরেস্তাগণের নেতা হিসেবে বিবেচনা করে। এমনকি “শয়তান” শব্দ উচ্চারণ এবং বলা তাদের জন্যে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারা এমন ধারণা পোষণ করে যে, মানুষের নিজের হৃদয় এবং আত্মার মধ্যেই অমঙ্গলের উৎস, তাউস মালেকের মধ্যে নয়।  এই ধর্মের মূল চালিকা শক্তি তাউস মালেক ও শেখ আদি।

ইয়াজিদিগণ বিশ্বাস করে তাউস মালেক খোদারই প্রতিরূপ এবং একজন হিতৈষী ফেরেস্তা। তিনি নিজেকে তার পতন থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং পরে সৃষ্টিকর্তারূপে আবির্ভূত হন। তিনি Cosmic egg থেকে cosmos সৃষ্টি করেন। অনুশোচনার পর তিনি ৭,০০০ বৎসর ক্রন্দন করেন। তার চোখের জলে ৭টি পাত্র পূর্ণ হয়, আর তা দোযখের আগুনকে নির্বাপিত করে ফেলে। ফলে ইয়াজিদি বিশ্বাসে নরকের কোন স্থান নেই।

তাউস মালেক।

ইয়াজিদি বিশ্বাস মতে তাউস মালেক প্রত্যেকের দায়িত্ব-কর্তব্য, কল্যাণ ও আশীর্বাদ এবং দূর্ভাগ্য বন্টন করেন তেমনই, যেমন তার ইচ্ছে। আর তাই এ সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করা কারও জন্যে জায়েজ নয়। শেখ আদি আরও বিশ্বাস করতেন তার আত্মা ও তাউস মালেকের আত্মা একই, বলা যায় একই আত্মার নূতন দেহধারণ।  ইহুদি, ক্রিশ্চিয়ানিটি ও ইসলাম থেকে ইয়াজিদি ধর্মমতে সৃষ্টি তত্ত্বে ভিন্নতা রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে খোদা সর্বপ্রথম তাউস মালেকে সৃষ্টি করেন তাঁর নিজের রূহানী থেকে এবং তাকে অন্য কোন সৃষ্টিকে সিজদা না করার নির্দেশ দেন।  এরপর খোদা অন্যান্য ছয় প্রধান ফেরেস্তাকে সৃষ্টি করেন এবং তাদেরকে পৃথিবী থেকে মাটি সংগ্রহের নির্দেশ দেন। তারা তা নিয়ে এলে তিনি ঐ মাটি দিয়ে আদমকে সৃষ্টি করেন এবং নিজের শ্বাস ফুঁকে দিয়ে তাকে জীবন দেন। এরপর তিনি ফেরেস্তাদের নির্দেশ দেন আদমকে সিজদা করার। এই নির্দেশ তাউস মালেক ছাড়া সকলেই পালন করে। খোদা তাকে সিজদা না করার কারণ জিজ্ঞেস করলে তাউস মালেক উত্তরে বলেন- “How can I submit to another being! I am from your illumination while Adam is made of dust.” তখন খোদা তার প্রশংসা করেন এবং সকল ফেরেস্তাদের সর্দার করে দেন। এরপর তাকে পৃথিবীতে তাঁর ডেপুটি হিসেবে নিয়োগ দেন।


যদিও এ ঘটনায় শয়তানের গর্বীয় পাপের নিদর্শণ দেখা যাচ্ছে, তথাপি ইয়াজিদিগণ বিশ্বাস করে যে তাউস মালেক পৃথিবীতে খোদার প্রতিনিধি এবং নিশান বা এপ্রিল মাসের প্রথম বুধবার তিনি ধরায় আগমন করেন। আর তারা আরও বিশ্বাস করে যে, খোদা এদিনই তাউস মালেকে সৃষ্টি করেছিলেন। এ কারণে তারা দিনটিকে নববর্ষ হিসেবে উৎযাপন করে।

ইয়াজিদিগণ যুক্তি দেখান যে, আদমকে সিজদা করার আদেশ তাউস মালেকের জন্যে কেবলমাত্র একটা পরীক্ষা ছিল। কেননা, খোদা কোনকিছু আদেশ করলে তা অবশ্যই ঘটে।  আর বাইবেল ও কোরআনও এমনটাই বলে।  অন্য কথায়, God could have made him submit to Adam, but gave Tawûsê Melek the choice as a test. তারা বিশ্বাস করে যে, Tawûsê Melek এর জন্যে তাদের সম্মান এবং প্রশংসা is a way to acknowledge his majestic and sublime nature. আর এই আইডিয়াকে বলা হয়, “Knowledge of the Sublime”-(Zanista Ciwaniyê). অন্যদিকে, শেখ আদির আত্মা, তাউস মালেকের আত্মার প্রতিরূপ হওয়ায়, আদি তাউস মালেকের কাহিনী নিজে অবলোকন করেছেন এবং তার উপর বিশ্বাস এনেছেন।

ইয়াজিদিগণ বিশ্বাস করে, ভাল এবং মন্দ প্রতিটি মানুষের মনে এবং আত্মায় বর্তমান রয়েছে। মানুষের নিজের উপরই নির্ভর করবে সে কোনটি বেঁছে নেবে। আর তাই তাউস মালেকের প্রতি অনুগত হওয়া তাদের একান্ত জরুরী, কেননা, খোদা ভাল ও মন্দের মধ্যে একটিকে বেঁছে নিতে তাকে একই চয়েস দিয়েছিলেন এবং তিনি ভালটাকে বেঁছে নিয়েছিলেন। ইয়াজিদিগণ আরও বিশ্বাস করে যে, তাদের ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আদি ইবনে মুসাফির, তাউস মালেকেরই প্রতিরূপ।

খৃষ্টান, মুসলিম এবং অন্যান্যরা তাউস মালেকে Lucifer বা শয়তান হিসেবে সনাক্ত করে থাকেন।  অন্যদিকে ইয়াজিদি পবিত্র গ্রন্থ ব্লাক বই অনুসারে, ইয়াজিদিদের জন্যে “শয়তান” নাম উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ।  কেননা, their people would be religiously persecuted by other faiths.

মসূলদাম বাঁধের নিকট এক ইয়াজিদি শহর।
আর্মেনিয়াতে, যেখানে ইয়াজিদিগণ তাদের আর্মেনিয়ান ক্রিশ্চিয়ান প্রতিবেশীদের মাঝে মুসলিম শত্রুদের থেকে আত্মরক্ষা করে বংশবিস্তার করেছিল, সেখানে তারা বর্তমানে only significant ethnic minority.-এতক্ষণ যে তথ্যের অবতারণা করা হয়েছে তা মোটামুটি Wikipedia’র সারাংশ। এখন আমরা দেখব এদের সম্পর্কে অন্যান্য তথ্য ভান্ডার কি বলে-

সানজাক
ইয়াজিদিগণের নিকট প্রধান ঐশ্বরিক চরিত্র হচ্ছে মালেক তাউস।  আর তাকে উপাসনা করা হয় ময়ূর রূপে কল্পনা করে। তিনি অন্য আর ছয় ফেরেস্তা নিয়ে মহাবিশ্ব শাসন করেন। কিন্তু এই সাতজনের সকলেই সর্বশক্তিমান খোদার অধিনস্ত। তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করার পর থেকে এর প্রতি সরাসরি আর কোন আগ্রহ দেখাননি। ইয়াজিদিগণ সাত ফেরেস্তাকে উপাসনা করে তাম্র বা লৌহের তৈরী সাতটি ময়ূরের মূর্ত্তির আকারে, যাকে বলা হয় sanjaq. আর এর সবচেয়ে বড়টির ওজন প্রায় ৭০০ পাউন্ড।

ইয়াজিদিগণ দ্বৈতবাদ বিরোধী। তারা অশুভ বা evil-এর অস্তিত্ব অস্বীকার করে। আর তাই তারা প্রত্যাখ্যান করে পাপ, শয়তান এবং নরককে। তাদের মতে, ঐশ্বরিক আইন অমান্য বা ভঙ্গ প্রায়শ্চিত্ত হয় পুনর্জন্ম বা আত্মার দেহান্তরের মাধ্যমে, যা আত্মাকে উত্তরোত্তর পরিশোধনে সাহায্য করে। ইয়াজিদিগণ আরও বলে থাকে, যখন Tawûsê Melek খোদার নিকট তার গর্বের দরুণ পাপের অনুশোচনা করে, তখন তাকে ক্ষমা করা হয় এবং ফেরেস্তাদের নেতার পূর্বপদ তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। আর এই উপাখ্যান (myth)-ই ইয়াজিদিগণকে অন্যদের নিকট শয়তানের পূজারী হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। ইয়াজিদিগণ আরও বিশ্বাস করে, তাদের প্রধান ধর্মীয় গুরু শেখ আদি, পুনর্জন্মের মাধ্যমে ঈশ্বরত্ব লাভ করেছিলেন।

শেখ আদির সমাধি মন্দিরের একাংশ।
ইয়াজিদি ধর্মের প্রধান কেন্দ্র শেখ আদির সমাধিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এবং বাৎসরিক উৎসব উৎযাপিত হয় এই সমাধিস্থলেই। আদির এই সমাধিটি মসূলের উত্তরে, Ash-Shaykh ‘Adi শহরের প্রাক্তন নেস্তোরিয়ান খৃষ্টান আশ্রমে অবস্থিত। আরবীতে লিখিত দু’টি পুস্তিকা, Kitab al-jilwah (“Book of Revelation”) ও Mashaf rash (“Black Book”), ইয়াজিদিগণের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। আর শেখ আদিকে প্রশংসা করে লিখিত আরবী স্ববগানও (Arabic hymn) সম্মানের সাথে পঠিত হয়।

ইয়াজিদিগণ মসূল থেকে ককেশাস অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করে।  এদের সংখ্যা ৫০,০০০এর মত। তারা নিজেদেরকে Dasni হিসেবে পরিচয় দেয় এবং কুর্দিশ উচ্চারণে কথা বলে। তাদের সম্প্রদায়ের প্রধান হচ্ছেন একজন খলিফা, যিনি শেখ আদির একজন উত্তরসূরী। তার অধীনে রয়েছে sheikh, kavval, ও faqir-গণ। পৌরোহিত্য পুরুষানুক্রমিক। তাদের নৈতিকতা, ঐ এলাকার গড় নৈতিকতার উপরে। তারা সাহসী এবং ধূর্ত। তাদের মেজাজ প্রফুল্ল কিন্তু শান্ত। আর তারা পরিচ্ছন্ন স্বভাবের। তাদের মহিলারা বোরখা পরে না এবং হয়ত: অপরিচিতদেরও অভ্যর্থনা জানায়। নীল রং এর প্রতি তারা বড় ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখায়। পুরোপুরি অশিক্ষিত হওয়ায়, তারা তাদের প্রথা ও ঐতিহ্য মৌখিকভাবে বংশ পরস্পরায় এগিয়ে নিয়ে যায়।

শেখ আদির সমাধি, উৎসবের সময়।
তাদের প্রধান উৎসব ১০ই অগাস্ট। ঐদিন আত্মনিগ্রহকারীগণ সাঁরি বদ্ধভাবে বদরী গ্রামের (village of Ba’adri) দিকে এগিয়ে যায়। সেখানে রয়েছে তাদের প্রধান ধর্মীয় গুরু শেখ আদি বিন মুসাফিরের সমাধি। আর তার চারিদিকে ন্যাপথা ও বিটুমিন প্রজ্জ্বলিত করে রাখা হয়।।  ইয়াজিদি শব্দের উৎপত্তি বহুল আলোচিত। খুব সম্ভবত: এর সম্পর্ক রয়েছে Av.Yazata’র, যার অর্থ উপাস্য বা দেবতা, “deity”, আবার পার্স্যিয়ান Yazdan অর্থ খোদা, “God”. আর এটাই তাদেরকে জরথুষ্ট্রবাদী বা মুসলিমদের থেকে পৃথক করেছে। যদিও তাদের পুরোহিত সম্প্রদায় মুসলিমদের অনুরূপ এবং তারা মুহম্মদ এবং ইব্রাহিমকে নবী হিসেবে স্বীকার করে, কিন্তু তাদের রীতিনীতি মুসলিম ধর্ম থেকে বড় রকমের পৃথক। আবার তারা নেস্তোরিয়ান খৃষ্টানও নয়, যদিও তারা বাপ্তাইজ করে এবং খৃষ্টকে ফেরেস্তার মানবীয় রূপ হিসেবে বিবেচনা করে। বস্তুত: তারা পারস্যিয় ও অশুরীয় উপাদানের সাথে মাজিবাদের বিভিন্ন মতবাদের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। যেমন, তাদের অগ্নি উপাসনা পার্স্যিয়ান। They profess that the devil is a creative agent of the supreme God,inasmuch as he produced evil. আর তাই ভক্তি-শ্রদ্ধা তার প্রাপ্য।

ইয়াজিদি তরুণী।
ইয়াজিদিগণ বলে থাকে- খোদা পৃথিবীকে সুন্দর করে তৈরী করেছিলেন। তারপর Melek Taus তাঁর সম্মুখে হাজির হয়ে বলেন, অন্ধকার ছাড়া আলো অর্থহীন, রাত ছাড়া কোন দিন হয় না। আর এভাবেই he caused night to follow day.

Dr. R.C. Zaehner তার “The Hutchinson Encyclopaedia of Living Faiths” পুস্তকে ইয়াজিদি ধর্ম বিশ্বাসকে, “aberrant form of the Sufi movement” হিসেবে বিবেচনা করেছেন। অন্যদিকে Joseph T. Parfit তার “Marvellous Mesopotamia” বইতে লিখেছেন-
ইয়াজিদি বা শয়তানের উপাসকগণ মসূলের নিকটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক গ্রামে এবং Sinjar পর্বতে বসবাস করে।  তাদেরকে দেখলে কুর্দি বংশোদ্ভূত বলে মনে হয়। তারা কথা বলে কুর্দি এবং আরবীতে। প্রায় ৪০ হাজারের মত ইয়াজিদি মেসোপটেমিয়াতে রয়েছে এবং ছয় হাজারের মত ককেশাসে। তাদের হেডকোয়ার্টার প্রাচীন নিনেভের উত্তর-পূর্বে একটা ভৌতিক এলাকা (weird place)- শেখ আদিতে।  তাদের বেশ কিছু অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য বা বলা চলে মহৎ গুণ রয়েছে, তথাপি তারা অবজ্ঞাত, উপেক্ষিত ও নিগৃহীত। তাদেরকে “Devil worshippers” বলা পুরোপুরি সঠিক নয়। কেননা, তারা সর্বশক্তিমান খোদায় বিশ্বাস করে, যিনি সৃষ্টি করেছেন এই মহাবিশ্ব। কিন্তু তারা শয়তানকে “Prince of this world”- হিসেবে ভিন্নভাবে মূল্যায়ণ করে, যেন তার প্রতিহিংসায় তারা না পড়ে।  তারা মূলত: যে সকল শব্দের আদ্যোক্ষর Satan নামের আদ্যোক্ষরের সাথে মিলে যায় তা পরিহার করে এবং পরিবর্তে সমার্থক আরবী শব্দ ব্যবহার করে।  এভাবে তারা devil বা শয়তান সম্পর্কে কথা বলার সময় তাকে “Prince of Darkness”, “Lord of the Evening” বা the “Exalted Chief” বলে সম্বোধন করে। অনেক ইয়াজিদি practise baptisms; make the sign of cross, and kiss the threshold of Christian Churches.

১৮৫০ সনে আদির সমাধি মন্দির, লালিশ, ইরাক।
আবার, Wigram and Wigram ইয়াজিদিদের সম্পর্কে লিখেছেন: ইয়াজিদি বা শয়তানের পুজারীগণ (“Devil worshippers”) প্রধাণত: বাস করে মসূল প্রদেশে। তারা যে শয়তানের পুজারী এতে কোন সন্দেহ নেই। কেননা, তারা নিজেরা স্বীকার করতে কোন সঙ্কোচ করে না যে, ঐ সত্বা যার প্রসন্নতা তারা কামনা করে এবং তাকে তুষ্ট রাখতে চায়, সে ইহুদি, খৃষ্টান ও মুসলিমদের নিকট শয়তান হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সৌভাগ্য ক্রমে আশেপাশের নৈতিকতা, তাদের সম্মন এ ধারণা পোষণ করতে বাঁধা দেবে। সত্যি বলতে কি, তাদেরটা কেবল একটা ধর্মীয় বিশ্বাস, কোন কাজের মাধ্যমে এর কোন বহি:প্রকাশ নেই।
ভাল থাকবেন সবাই আগামীতে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আরও লেখালেখির ইচ্ছা আছে।  লেখার আপডেট পেতে আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে রাখুন।
বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন...
Blogger Tips and TricksLatest Tips And TricksBlogger Tricks